পঁয়ত্রিশতম অধ্যায় চলো, দুঃসাহসিক খেলা শুরু হোক

সবকিছুই বাস্কেটবল থেকে শুরু। খেলাধুলায় আগ্রহী মাওমাও 2642শব্দ 2026-03-19 09:23:57

সিয়াটলের রাতের আভা যেন মন মাতানো।
লু ফেই মনে করতে পারে, আগে যখনই সে সিয়াটলে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে আসত, সবসময় সোনিক্স দলের কীগ অডিটোরিয়ামের কাছাকাছি এক হোটেলে উঠত, যার নাম ছিল ম্যাপল লিফ। হোটেলটি একটু দামী হলেও, সে ভাবত এই খরচটা মূল্যবান।
সে একটি ট্যাক্সি ধরে, গুড ট্যাংয়ের পাশে গাড়িতে বসল।
গাড়ির জানালার চিরে দিয়ে হালকা বাতাসে গুড ট্যাংয়ের চুল উড়ে উঠল, সে নিজেও বুঝতে পারল না মদ বেশি খেয়েছিল কিনা, নাকি লজ্জায় তার মুখটা টকটকে লাল হয়ে উঠল।
দু'পাশের রাস্তার দৃশ্য পিছিয়ে যাচ্ছে, সে হালকা করে লু ফেইয়ের কাঁধে মাথা রাখল।
‘‘আমি না হয় ফিরে যাই?’’
‘‘এত রাতে তুমি একা ফিরবে, আমি চিন্তিত থাকব।’’
‘‘তাহলে তুমি আমাকে পৌঁছে দাও।’’
‘‘আমি একটু ক্লান্ত, একটু বিশ্রাম নেই, তারপর তোমাকে পৌঁছে দেব।’’
...
ট্যাক্সি ড্রাইভার রিয়ারভিউ মিররে তাকিয়ে দেখল, পেছনের এই প্রেমিক যুগল নিজেদের ভাষায় ফিসফিস করছে, যদিও সে কিছুই বুঝতে পারছিল না, তবে তাদের অভিব্যক্তি দেখে আন্দাজ করা গেল, ছেলেটি হয়তো মেয়েটিকে হোটেলে নিয়ে এসেছে।
হোটেলে পৌঁছে, ভাড়া মিটিয়ে, লু ফেই গুড ট্যাংয়ের বাহু ধরে গাড়ি থেকে নামল।
সে আইডি বের করে রুম বুক করল, ঠিক তখনই তার পকেটে থাকা ফোনটা দুবার কাঁপল।
সে ফোনটা বের করে দেখল, দেশের কোড +৮৬ দিয়ে শুরু, নম্বরটা কিছুটা চেনা লাগল।
‘‘কে?’’ গুড ট্যাং জিজ্ঞাসা করল।
‘‘জানি না।’’
লু ফেই পাত্তা না দিয়ে ফোনটা পকেটে পুরে ফেলল, ‘‘রুম বুক হয়ে গেছে, চল উপরে যাই।’’
‘‘সত্যি যাচ্ছ?’’ গুড ট্যাং একটু পিছিয়ে গেল।
‘‘নিশ্চয়ই, তুমি কি ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কথা বলতে চাও না?’’
লু ফেই তার বাহু ধরে টেনে উপরে নিতে লাগল, গুড ট্যাংয়ের মুখে লজ্জার রঙ, সে নানা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করল।
‘‘ভবিষ্যৎ তো আগামীকালও আলোচনা করা যাবে।’’

‘‘কাল তো আমার ম্যাচ আছে।’’

‘‘তাহলে খেলা শেষে আলোচনা করব।’’

‘‘খেলা শেষে তো তুমি চলে যাবে।’’

‘‘তুমি আমাকে ফোন করতে পারো...’’

গুড ট্যাং এতটুকু বলতেই, লু ফেইয়ের ফোন আবার বেজে উঠল, সে বের করতেই ফোনটা কেটে গেল।
‘‘কে রে, একবার ডাকে, আবার কেটে দেয়!’’
লু ফেই বিরক্ত হয়ে রুমের দরজা খুলল, কার্ড ঢোকাল, ‘‘ডিং’’ শব্দে আলো আর এসি এমনিতেই জ্বলে উঠল।

রুমের দরজা বন্ধ, গুড ট্যাং নিরাশ হয়ে বিছানার ধারে বসে পড়ল।
লু ফেই ফোনটার নম্বরের দিকে তাকিয়ে ভাবল, কোথায় যেন দেখেছে, ‘‘তুমি আগে চান করো, আমি এই লোকটাকে একটা ফোন করি।’’
‘‘আমি চাই না,’’ গুড ট্যাং বলল।
‘‘তোমার ইচ্ছা, আমি ফোন করি।’’
রুমে টিভিতে স্থানীয় খবর চলছিল, একটু শব্দ হচ্ছিল।
লু ফেই একটু নিরিবিলি কোনে গিয়ে ফোন দিল, কয়েকবার রিং হতেই ওপাশে গাম্ভীর্যপূর্ণ কণ্ঠ ভেসে এল, ‘‘হ্যালো, লু ফেই, কেমন আছো? আমি গুও চিয়াং...’’
‘‘আহ, গুও কোচ!’’ লু ফেই মনে মনে স্বস্তি পেল, ভালো যে প্রথমে কিছু বলেনি, ‘‘কোচ, আপনি ফোন দিলেন, কিন্তু রিং হয়েই কেটে গেল কেন?’’
গুও চিয়াংয়ের কণ্ঠ শুনে লু ফেইর বেশ আপন মনে হল, যদিও সে খনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র কয়েকদিন ছিল, তবে দলের প্রতি তার টান ছিল গভীর, মাঝে মাঝে সে সেই দল, ওয়াং ঝুয়াং, গাও ইউনফেই, লুও দা হাই—সবাইকে মনে করত, ওটাই ছিল তার জীবনের বাস্কেটবলের সূচনা, স্বপ্নের শুরু।
গুও চিয়াং হালকা কাশলেন, ‘‘ও হয়তো ভুলে লেগে গিয়েছিল, আমার এই সামান্য বেতনে আন্তর্জাতিক ফোন করতে কষ্ট হয় তো, লু ফেই, আমেরিকায় কেমন আছো?’’
লু ফেই বুঝতে পারল, ফোনের বিল নিয়ে চিন্তা করছেন, মুহূর্তেই আবেগটা ফুরিয়ে গেল।
‘‘কোচ, আমি ভালো আছি, সদ্য ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে ঢুকেছি, এখন এনসিএএ খেলছি।’’
গুও চিয়াং শুনে খুশি হলেন, ‘‘তাহলে ভালো খেলো, আমেরিকায় আমাদের দেশের নাম উজ্জ্বল করো।’’
‘‘নিশ্চয়ই, চিন্তা নেই কোচ।’’
‘‘আসলে, লু ফেই, একটু সাহায্য দরকার ছিল।’’ গুও চিয়াং একটু ইতস্তত করলেন, ‘‘আমার এক বন্ধুর মেয়ে ওয়াশিংটনে পড়ে, আগের বার জিনলিংয়ে খেলার সময় বলেছিলাম, আমার ছেলেরা বিদেশে পড়ে, সেও ওয়াশিংটনে, সে চেয়েছে তুমি যেন ওর মেয়েকে একটু খেয়াল রাখো।’’
‘‘কোচ, আমি কিন্তু ওয়াশিংটন শহরে নেই,’’ লু ফেই হেসে বলল।
‘‘তুমি নেই? তাহলে ঝামেলা থাকলে ছেড়ে দাও, আমি তো কথাটা শুনে জিজ্ঞেস করলাম।’’

লু ফেই তাড়াতাড়ি বলল, ‘‘না কোচ, আমার কথার ভুল বুঝবেন না, আমি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তবে সেটা সিয়াটলে, ওয়াশিংটন শহরে না, আপনি যে ওয়াশিংটনের কথা বলছেন সেটা সম্ভবত কলম্বিয়া জেলার রাজধানী?’’

‘‘আহা, আমেরিকায় কয়টা ওয়াশিংটন?’’ গুও চিয়াং অবাক।
‘‘বিশেরও বেশি।’’ লু ফেই苦 হাসল।
‘‘ঠিক আছে, আমি আমার বন্ধুর সঙ্গে আবার কথা বলি। তবে ও যদি তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়, তাহলে অবশ্যই খেয়াল রাখবে।’’
‘‘নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই।’’
লু ফেই হাসল, এই ছোটখাটো অনুরোধ সে কখনোই ফিরিয়ে দিত না, সে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘‘কোচ, আপনার বন্ধুর মেয়ের নাম কী?’’
ওপাশে একটু চুপচাপ, মনে হল পাশে কাউকে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘‘ওই, তোমার মেয়ের নাম কী?’’
নিশ্চিত হয়ে গুও চিয়াং বললেন, ‘‘ওর মেয়ের নাম সম্ভবত গুড ট্যাং।’’
লু ফেই থমকে গেল।
বিছানার ধারে জানালার বাইরের রাতের দৃশ্য দেখছিল গুড ট্যাং, লু ফেইর মনে হল সে একটু অপরাধী।
অন্যের মেয়েকে দেখভাল করার কথা, অথচ সেই মেয়েকে হোটেলে নিয়ে এসেছে?
গুও চিয়াং ফোন না দিলে, একটু পর হয়তো বিছানায়ও চলে যেত।

‘‘হ্যালো, লু ফেই?’’
‘‘জি, কোচ, আমি ওকে চিনি, যদিও আমরা এক শহরে না, তবে সময় পেলে ওর কাছে যাব, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আমি অবশ্যই খেয়াল রাখব।’’ লু ফেই অসহায় মুখে বলল।
‘‘তাহলে তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, আমি ফোন রাখছি।’’
‘‘না, তবে কোচ, আপনি ভুলে গেলেন, আন্তর্জাতিক ফোন ধরলেও চার্জ লাগে...’’
‘‘টুট...টুট...’’
লু ফেইর কথা শেষ হওয়ার আগেই ওপাশে ফোন কেটে গেল।
গুড ট্যাং বিছানার ধারে বসে, চাদরের ছাপড়া ঘষছিল, হাত ঘেমে গিয়েছিল, বাইরের চাঁদের আলো যেন সোনালি কুয়াশার মতো মেঝেতে পড়েছে।
সে শুনতে পেল লু ফেইর পায়ের শব্দ।
‘‘ফোন শেষ?’’
‘‘হ্যাঁ।’’
‘‘কে ছিল?’’
‘‘গুও কোচ, খনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের কোচ।’’

‘‘ও।’’
দুজনেই চুপচাপ।
কিছুক্ষণ পরে, লু ফেই জানালার বাইরের চাঁদ দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ‘‘গুড ট্যাং...’’
‘‘হ্যাঁ?’’
‘‘রুম বুক হয়ে গেলে কি আর ফেরত দেয়া যায় না?’’
‘‘অবশ্যই না।’’
‘‘তাহলে একটু পরে চেন লাও দ্যাকে ফোন দিই, আমরা তিনজন রাতে তাস খেলব?’’
‘‘লাও দ্যা তো নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে।’’
‘‘তাহলে আমরা দুজন খেলি।’’
‘‘দুজন মিলে খেলা যায় না, আসলে ব্যাপারটা কী? আমি চান না করায় তুমি কি রাগ করেছ?’’ গুড ট্যাং একটু লজ্জায় মুখে বলল, ‘‘আমি যাচ্ছি, তুমি একটু অপেক্ষা করো।’’
সে উঠতে যাচ্ছিল, এমন সময় ব্যাগের ভেতরের ফোনটা বেজে উঠল।
সে ফোনটা দেখে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল, চুপচাপ থাকার ইশারা দিল, লু ফেই সতর্ক হয়ে টিভি বন্ধ করে দিল।
‘‘হ্যালো, বাবা... আমি হোটেলে... হ্যাঁ, কালই ফিরব... কী? আপনার বন্ধুর ছাত্রী... দরকার নেই, সত্যি দরকার নেই... কী নাম? লু ফেই?’’
লু ফেই নিজের নাম শুনে ভাবল, এখনও তাস কিনতে গেলে হয়তো সময় আছে।